Posts

সর্বনাশ

 সর্বনাশ মোহাম্মদ মুছা দালান কোটার চিপায় গলি ইট পাথরের রঙ্গিন তুলি, কবির ছন্দে হলো সর্বনাশ, কোথায় গেলো সরষের অলি খোঁজে না পায় পাকপাকালি এই শহরই করলো সবি গ্রাস হলো সর্বনাশ।  সবুজ শ্যামল কত কোমল রাত পোহালেই হতাম বিমল কবির ছন্দে হলো সর্বনাশ,  কোথায় গেলো জোনাকির দল  সবুজ বাতির আঁধার ঝলমল এই শহরই করলো সবি গ্রাস হলো সর্বনাশ।  গায় না মাঝি জারি সারি নদীর বুকে বায়না তরী কবির ছন্দে হলো সর্বনাশ, পানকৌড়িদেট ডুব গেলো কই রোদ্র ঝলকের জলের অথৈই এই শহরই করলো সবি গ্রাস  হলো সর্বনাশ।  কাব্যগ্রন্থঃ-দ্রোহের আগুন  প্রকাশ কালঃ- অমর একুশে বই মেলা,২০২০

রহস্যের আজব কারিগর

 রহস্যের আজব কারিগর  মোহাম্মদ মুছা  মানুষ রহস্যের আজব কারিগর  কেহ বাঁধে ঘর আবার কেহ যাযাবর, গড়ে তোলে তাজমহল প্রেমের ঘোরে  নির্বাসনে যাই কেহ বিরহ বিভোরে, আকাশে উড়ে বেড়াই দিগন্তের সন্ধানে  ফুল ফুটাই গড়ে বাগান প্রস্তর উদ্যানে, অথৈই জলে ভাসে বৈটা হাতে তরী প্রকৃতির বুক ছিঁড়ে সমতল করে গিরি, অচিনকে সুচিন করে মাটি করে উর্বর  আবার কেহ উজাড় করে হয়ে বর্বর, যদিওবা হরেক ভাষা হরেক রকম জাত তবুও মানুষ সৃষ্টির সেরা আশরাফুল মাকলুকাত।

স্বপ্নের বিনাশ

 স্বপ্নের বিনাশ মোহাম্মদ মুছা  নিঝুম রাতে বসে মেলায়,জীবনের হিসাব নিকাশ কার লাগিয়া হলো বুঝি সপ্নগুলোর বিনাশ, কে হেরেছে কে জিতছে কার হয়েছে ছারখার  অথৈই জলে ভেসে ভেসে কে হয়েছে কূল পাড়?  দুজন যদি একই মাটির গড়া, একই বিধাতার  তফাত কেন তবু বলো জীবন নদীর পারাপার!  আমার আছে যেটুকু দায় কাঁধে তুলে নিলাম তোমার বেলায় আমি সবি, বাদ'ই না হয় দিলাম, তুমি থাকো মহাসুখে আমার এইতো চাওয়া  ভুলে যেতে চাইবো আমি ভালোবাসার মায়া, আমি আজি বিদায় নিলাম কেবল শুন্য হাতে চাঁদ হয়ে আর আসিও না, জোৎসনা ভরা রাতে।

দ্রোহের আগুন

 দ্রোহের আগুন  মোহাম্মদ মুছা  দ্রোহের আগুনে জ্বলতে জ্বলতে নিঃস্ব হয়েছি পোড়েছে দেহ,পোড়েছে মন,পোড়েছে আরো কত কি? আশার আলো দগ্ধ হয়ে স্বপ্ন পোড়ে ধোঁয়া হলো  শূন্য আকাশে উড়িতে উড়িতে মেঘের রুপ নিলো, আকাশ বলে - আমি দ্রোহি বজ্রতে বুক কাঁপায়  বাতাস ও তাই বলে ভাই প্রবল বেগে সবি উড়াই,  নদী  - বলে আমি দ্রোহি তরঙ্গে কূল ভাঙ্গায় পাহাড় বলে আমি কিসের কম, এসে দেখ চূড়ায়।  বৃষ্টি বলে - আমি দ্রোহি মেঘের মুক্তি চাই.....  রুদ্র ঝলমল রংধনু বাহারি রঙে আকাশ রাঙায়,  চারিদিকে এতো দ্রোহ বসে থাকা কি ঘরে যায়?  দ্রোহের জগত বেছে নিলাম এই তো আমার দায়  দ্রোহের আগুনে জ্বলতে জ্বলতে নিঃস্ব হয়েছি  জ্বলন্ত লাভা তবুও পোড়ায়,জ্বলতে বাকি রইলো কি?  কাব্যগ্রন্থ - দ্রোহের আগুন প্রকাশ কাল - ২০২০,অমর একুশে বই মেলা

চাঁদটা দিবো ছুঁয়ে

 চাঁদটা দিবো ছুঁয়ে  মোহাম্মদ মুছা  চেনা পথে অচিন হয়ে  এখন আমি বৈরাগী, রঙ্গিন জীবন পানশে হলো রাতের সাথেই মিতালি, বনফুলের স্নিগ্ধ সুবাস যখন   তপ্ত হাওয়ায় ভাসে মনটা আমার উদাস এখন ক্ষিপ্ত; অনল রোষে, উদাসী মন চাই যে এমন "নদী যখন থেমে গেলো  পাহাড় পড়ুক নুয়ে  আকাশটা আজ ভেঙ্গে পড়ুক চাঁদটা দেবো ছুঁয়ে"

শখের নদী

 শখের নদী  মোহাম্মদ মুছা আমার কেয়ায় পাল উড়েনা বাতাসে নাই গতি  নদী আমার শুকিয়ে গেছে  খরা আমার সতি, শখের নদী দুঃখ এখন  বৈঠা হাতে কাঁদি কোন মোহনায় স্রোতের বাঁধা মন রাখিলাম বাঁধি, আকাশ গর্জে মেঘও দৌড়ে  বইবে বুঝি জল বেলা গেলো আশায় আশায়  এইটা কেমন ছল !  বুকের মাঝে যে মোহনা  বইতে থাকে ঢল কারো এইটা নয় করুনা  এটা ; আমারই চোখের জল।

বেলকুনি

 বেলকুনি  মোহাম্মদ মুছা  ইট পাথরের শহরে ব্যস্থ মানুষের কোলাহল শুনি ছুটছে সবাই আপন কাজে, থাকি আমি আনমনে সঙ্গী তখন লোহার কপাট বেলকুনি , আকাশ দেখি মেঘও দেখি রাত পোহালে চাঁদের আলোয় তারা গুনি এই পাশ ছুটি ও পাশ ছুটি বেহুলা বেঁধে রাখি সঙ্গী তখন লোহার কপাট বেলকুনি ,  পাহাড় চূড়ায় রোদ্র ঝলক দেখতে লাগে পরশ মনি মন ছুটে যা ঐ যে চূড়ায় মন চাইলে কি যায় তা ছোঁয়ায়, সঙ্গী তখন লোহার কপাট বেলকুনি,  শীত সকালপ আঁচল বিছায়, ভেজা চুলে কোপা খুলে, শীতল প্রানে মৃদু রোদ্রে তপ্ত লাগায়,  সঙ্গী তখন লোহার কপাট বেলকুনি,  অলস দুপুর করে ব্যকুল বসন্ত যখন পাশ কেটে যায়, কালো কোকিল সুর তোলে যায় কৃঞ্চকলির নয়ন জুড়ায় সঙ্গী তখন লোহার কপাট বেলকুনি,  শ্রাবন মেঘে বাদল ছুটে,তোড়ায় তোড়ায় কদম ফুটে , ভেজা শালিক মন হতে চায়,দুহাত মেলে জল ছুঁতে চায় সঙ্গী তখন লোহার কপাট বেলকুনি,  উদাসী মন ক্ষিপ্ত যখন কেউ থাকেনা সঙ্গী তখন বেলকুনিটা লোহার কপাট ভুলেতো যাই এ মন !