Posts

অগোচর

 অগোচর মোহাম্মদ মুছা  এই শহরের অলিতে-গলিতে প্রহরী অথচ, তুমি প্রতি রাতই আমার প্রসাদে অবাধে অন্তগমন  করো কেঁড়ে নাও চোখের ঘুম, জেগে জেগে ক্লান্ত শরীরে হুইসেল শুনি কিন্তু কবু তোমাকে কেউ পাকড়াও করেনি তোমার নাকি ছায়া নাই পদাচরনে শব্দ নাই,  অথচ, আমি তোমার পায়ের নুপুরের ভয়ঙ্কর শব্দ শুনি শুনশান নীরবতার মাঝে কেন আসো বল'তো? গেলে'তো গেলে; বার-বার আঘাত করাতে কি শান্তি মেলে তোমার সময় কতকিছুই গিলে নিলো কেবল তুমি অধরাই রয়ে গেলে  বছরের পর বছর।

নিষ্প্রান দৈত্য

 নিষ্প্রান দৈত্য  মোহাম্মদ মুছা  শখের চাঁদ মায়ার চাঁদ  কখনো কুয়াশায় চাদরে কখনো মেঘের আড়ালে মুগ্ধ মোহে পাহারায় রাখি, অথচ, তার কোন বোধ নাই  আমার মোহ আমার যাতনা  আমার মুগ্ধতা আমার দায় তার'তো কোন বোধ নাই, রক্ত-মাংসের হৃদ নাই পরান কাঁদার জো নাই অশ্রু ঝরার নয়ন নাই, শখের চাঁদ মায়ার চাঁদ আকাশের বুকে দিব্যি এক দখলদার।

মহা সংকেত

 মহা সংকেত  মোহাম্মদ মুছা  রক্ত জমাট মেঘ নীল আকাশের সীমান্ত জুড়ে  ক্ষুব্ধ বাতাসের গতিবেগ তান্ডবে মেতেছে  মহাপ্রলয়ের বার্তা পল্লবে পল্লবে দুলছে, ভোরের পাখির ডাক জাগ্রতরাই শুনে, আঁধার কাটবে এইতো আঁধার কেটেছে বলে যৌবনের বসন্ত বিদায়ের সাক্ষী হয়ে লাভ কি বলো? কৃষ্ণচূড়া মতো রাঙিয়ে দাও রক্তের দাগ শুনানোর আগেই, এসো নওজোয়ান আঘাত হানি বর্গিদের দূর্গে, যুগে যুগে আমরাই জিতি আমরাই জিতবো আমারই সেনা আমরাই তরবারি আমরাই ঢাল, আমরাই রণকোঠার আমারই বর্শা আমরাই তীর-ধনুক, এসো বীর,তুচ্ছ'তো নয় তোমার রক্তের তাপাদাহ যুগে যুগে আমরাই জিতি আমরাই জিতবো। রক্ত জমাট মেঘ নীল আকাশের সীমান্ত জুড়ে  ক্ষুব্ধ বাতাসের গতিবেগ তান্ডবে মেতেছে  মহাপ্রলয়ের বার্তা পল্লবে পল্লবে দুলছে, ভোরের পাখির ডাক জাগ্রতরাই শুনে, আঁধার কাটবে এইতো আঁধার কেটেছে বলে যৌবনের বসন্ত বিদায়ের সাক্ষী হয়ে লাভ কি বলো? কৃষ্ণচূড়া মতো রাঙিয়ে দাও রক্তের দাগ শুনানোর আগেই, এসো নওজোয়ান আঘাত হানি বর্গিদের দূর্গে, যুগে যুগে আমরাই জিতি আমরাই জিতবো আমারই সেনা আমরাই তরবারি আমরাই ঢাল, আমরাই রণকোঠার আমারই বর্শা আমরাই তীর-ধনুক, এসো বীর,তু...

বিকৃত কাব্য

 বিকৃত কাব্য মোহাম্মদ মুছা  আকাশ যদি চিরকাল মেঘাচ্ছন্ন থাকতো তাহলে আমার হৃদয়কে তুমি আকাশ বলে চিনতে, নক্ষত্র আর ধুমকেতু রোজই ছুঁয়ে ছুঁয়ে বিহ্বল হতে আলোকরশ্মির তীব্রতায় অনুভবে ঝলসে যেতে, চাঁদের জোছনাও থাকতো সর্বদা দৃষ্টির গোচরে, পুরো আলোকবর্ষ জুড়ে মেঘের ঘনঘটা তাই বজ্রপাত ক্ষনিকের জন্যও ক্লান্ত হয়না, হৃদয় কাঁপায় অবিরত, মহাকাশের মতো কৃষ্ণগহ্বরও আছে এই হৃদয়ে বিষুবরেখা অতিক্রম করো না লিপ্সু নক্ষত্রের মতো, আচ্ছা বলোতো; যদি একটা চাঁদ বুকে পাঁজরে এসে পড়ে ভাবনা গুলো কি ভূল?

মায়ার মাশুল

 মায়ার মাশুল মোহাম্মদ মুছা  বেলা যাক গড়িয়ে ঘুমন্ত শহরে আঁধারে আচ্ছন্ন শেষ প্রহরে, হুতোম প্যাঁচা দেখলে দেখুক উঁকিয়ে ডাহুকের ডাক যাক বিকিয়ে,   প্রসাদের প্রহরি হেলে পড়ুক চেয়ারে কাঁটাতারের দেয়াল টপকে চুপিসারে ঘুমন্ত তোমাকে আনিবো লুটিয়ে সাধ্যকার আর নিবে তোমায় চিনিয়ে?

কাব্য প্রেমে কথা

 কাব্য প্রেমের কথা মোহাম্মদ মুছা  রবিঠাকুর গীতাঞ্জলির প্রান ভরেছে মোহে অগ্নিবীণা নজরুলের পাল ছিঁড়েছে দ্রোহে মহান কবি কায়কোবাদের আযান মহাসত্ত্ব  আবার আসিবো ফিরে জীবনানন্দ করেছে'তো মত্ত, স্বাধীনতা তুমি শামসুর রহমানের জাগরনের ডাক নির্মলন্দগুনের হুলিয়া  জুগিয়েছে মনের খোরাক, সোনার তরী আল মাহমুদ জাগিয়াছে বারংবার মহাকবি আলাওল পদ্মাবতী মন করেছে চুরমার, সত্যনাথ দত্তের রম্যরসে কথার ফুলঝুরি  শরৎচন্দ্রের দেবদাস করেছে মনটা চুরি, মন জুড়ানো কাব্য রসদ হাওয়া ধরায় পালে আকাশকুসুম সংস্কৃতি আজ সবি খেলো গিলে!

সাধুর স্বর্গ

 সাধুর স্বর্গ মোহাম্মদ মুছা  সাধু তোমার ভয় নাইকো চার-ছয় বিবি লালনে আমি কেবল থমকে গেছি দেনমোহরের চলনে, নগদানগদ হাজার বিশ'এক টাকায় খায়েস মিটো আমার বেলায় লক্ষ কোটি দেনমোহর'টা ছাটোঁ। বলৎকারে কায়েস তোমার আমি খুঁজি শরিয়াত  তখন তুমি কাম সারিয়ে খোদা বান্ধায় তবিয়ত, প্রেম-পীরিতি হারাম বয়ান সাধু তুমি দাও রজিন থাকায় ছাত্রীর প্রেমে মধু কেন খাও? দাঁড়ি টুপি পাঞ্জাবি টাক-নুর তোমার বিনিয়োগ মজুর-খেটে সারাজীবন পাবো কি স্বর্গ-সুযোগ? তুমি'তো ভাই পথের পাথয় আমি এইসব বুঝি খোদা আমার কোন জগতে ঘুম জাগিয়া খোঁজি!