Posts

প্রত্যর্পন

 প্রত্যর্পন মোহাম্মদ মুছা  পোড়া মাটির ধূসর এক শহর পিছু টানে, অবান্তর নয় কি? চলতে চলতে বহুপথ পিছনে ফেলেছি তবুও পিছু টানে, অবান্তর নয় কি? অবশ্রান্ত হৃদয় রক্তস্নাতে রক্তিম মেঘ হয়ে খসে পড়ার অপেক্ষায় তবুও পিছু টানে, অবান্তর নয় কি? প্রেম অবিরাম, অবিনশ্বর জাগ্রত করে যায় বারবার, অপূর্ব এক যাতনা, সংকট বুঝে-না, বুঝে-না অবিন্যস্ত স্বপ্নের ধ্বংসযজ্ঞ, কতো হাহাকারের আদলে বিচূর্ণ ললাটে শ্যাওলা জমেছে!  তাতে কি? অবান্তর হলে হোক এই শহরেতো তোমারই বাস, আমি ফিরছি আবার, পোড়া শহর, ধূসর শহর, স্বপ্নের ধ্বংসযজ্ঞ,ললাটে শ্যাওলা, সবি মাড়িয়ে দিবো, জড়িয়ে দিবো তোমারও গায়ে, আমি পিছনেই ফিরে আসছি, তুমি কেবল অপেক্ষা করো, অহমিকা গুড়িয়ে দিয়ে তেপান্তর হবো তোমায় লুটে,

স্বপ্নের বুকে

স্বপ্নের বুকে মোহাম্মদ মুছা  পৃথিবীটা স্বপ্নময় স্বপ্নের ছড়াছড়ি আমার চাওয়ায় হলো কেবল একটু বাড়াবাড়ি, হেঁটেছি বহুপথ ফিরেছি বারংবার হলোনা বাঁধা আপনার সুখের সংসার, স্বপ্নের বুকে বিধিলো বিষ মাখা তীর পাখির ডানায় সোনালি রোদ্দুর খুঁজে পায়নি নীড়, পথে প্রান্তরে ঝরাপাতা ধমকা হাওয়ায় উড়ে চোখের স্বপ্ন বুকের মাঝে লাভা হয়ে পুড়ে,

বিহ্বলতা

 বিহ্বলতা মোহাম্মদ মুছা  কষ্টে ধুঁকছে মন নষ্ট চিন্তাধারা, আপনারে রেখে গোপন হয়ছি পথহারা।  নষ্ট আমি কষ্ট বুকে তোরই ছবি আঁকি, সেই ছবিটা চোখে চোখে আট প্রহরেই রাখি।  বেহুলা মন যখন তখন  তোরে একটু ছুঁয়ে অন্ত-চক্ষুর নীরব রোদন বেদনা যায় ধুয়ে!

বেলা বয়ে যায়

 বেলা বয়ে যায়  মোহাম্মদ মুছা অবিরত হচ্ছে ক্ষত মহাকালের কাব্য যত, ছন্দ হারা জলধারা  মহাসাগর পুড়ছে খরা, আয়না ফিরে আয় ; কালের পরে কাল তোর'ই মায়া জাল,  বসত করে বুকে মারছে আমায় ধুঁকে, আয়না ফিরে আয় বেলা বয়ে যায়।

বসন্ত আজি বসন্ত

 বসন্ত আজি বসন্ত  মোহাম্মদ মুছা বসন্ত আজি বসন্ত  চিত্ত হলো মত্ত, বেদনা সব উড়িয়ে দিলাম যা ছিলো নিরুক্ত।  পলাশ শিমুল কৃষ্ণচুড়ায় রুদ্ররোষে অঙ্গ পুড়ায়, জরাজীর্ণ যতো ছুঁড়ে দিলাম বিবাগী মন ক্ষনে ক্ষন রঙে রাঙায়। বসন্ত আজি বসন্ত  জাগিলো আজি প্রেমোসত্ত্ব, শুভ্র সুবাসে স্বপন শিহরিত  ভুলে যাবো অতীতের যতো ব্যর্থ।    "বসন্ত আজি বসন্ত"

ভুবনমোহিনী

 ভুবনমোহিনী  মোহাম্মদ মুছা আমার শহরজুড়ে অন্ধকার,আমি আঁধারের ফেরারি, চাঁদের আলোয় তারা গুনি, অমাবশ্যায় বিচলিত প্রানে ছুটি এদিক ওদিক, গ্রাস হলো নিয়তি, তুমি ভুবনমোহিনী সুখের চাদর মুড়িয়েছো গায়ে, কোমল নির্মল শিরশির হাওয়ায় মুগ্ধ, চোখের দূরত্বে খুঁজে বেড়াও ধুমকেতুর দিগন্ত।  অথচ আমি বিবর্ন, বিবর্তনের বিরূপ বিধানে, প্রহর প্রহসনের আঘাতে আঘাতে ক্ষত বিক্ষত, নিদারুণ নিষ্ঠুর নিবারন সয়ে চলেছি প্রতিনিয়ত, বলতে পারো আমি কেন তুমি নয়? তোমার মতো স্বপ্ন বিলাশের বিমোহিত হয়ে বিনয়ী নয় কেন; তুমি জানো, আমারও জানা কমতি নয়, অবলীলায় অবন্তী তুমি বিধির কল্যানে, তুমি চাইলে অবরুদ্ধ স্বরে বলতে পারো ভালোবাসা সময়ের কিঞ্চিৎ অনুভূতি অনভিপ্রেত মোহ, তবে কেন আমার বেলায় অভিন্ন নয়; হ্যাঁ আসলেই তাই, তাইতো ধুঁকছি ; ভালোবাসা আর মুগ্ধতা একাকার করেছে আমায়, নীরব নিভৃতি থাকা যায়না, আঘাতের পর আঘাত হানা দেয় অন্তরে, অন্তর তা তুমি বুঝবে কি? তোমার তো আছে বিধির লীলা, অবিনশ্বর অভিলাষ পরমতীর্থ অনায়াসী তৃপ্তি, আর আমার সেই কবে- তৃপ্তি গেলো পরবাসে, তোমার অভিজাত্য আধিপত্য শোষণে, শোষিতের প্রেষনা বরাবরেই লাঞ্ছিত, তোমার তাতে কি আসে যায়, ...

কষ্টের আড়তদারি

 কষ্টের আড়তদারি মোহাম্মদ মুছা তুমি কাঁদছো কেন চোখের জল মুছে দিই?  না, কষ্টগুলো জল হয়ে চোখ দিয়ে ঝরতে দাও, না, আমি তা চায়না তোমার চাওয়া না চাওয়া আমার কিছু যায় আসে না,  আমি কাঁদবো আরো কাঁদবো  অবিরত চোখের জল ফেলবো জল নাকি যেদিকে গড়ায় সেই দিকে নদী সৃষ্টি হয়, যে নদীর মালিকানা হবে তুমি আমার কেবল উত্তাল ঢেউ, কূল ভাঙবে ঢেউয়ের আঘাতে যা দেখে তুমি অস্থির হবে,  বসত বাড়ী কেমন রুখবে? আমি মানে আমার জল তোমায় নিঃস্ব করবে হবে ফেরারি  অবশেষে জানবে কেন আমি করি                        কষ্টের আড়তদারি।