Posts

দায়ভার

 দায়ভার  মোহাম্মদ মুছা  বলো প্রভু ভূল কার তাহারে খুঁজিতে খুঁজিতে পথের বাঁকে আজ একাকার, গড়িয়েছে এতো বেলা নেমেছে শহর জুড়ে অন্ধকার, হুতোম প্যাঁচার ডাকে নীল জোছনার বাঁকে করছে মন উতাল, পাবো কোথায় তাকে হয়তো তারার ঝাঁকে হলাম আজি মাতাল, রাত যতোটা গভীর মন ছুটেছে সবির দম থেমেছে বারবার, ভাবনায় ডুবে নিবিড় বাঁধ ভেঙেছে সমীর পাল ছিঁড়েছে আমার, বলো প্রভু ভূল কার তাহারে বাসিতে বাসিতে আপনার জীবন আজ ছারখার পুড়েছে পুরোটা হৃদয় চারিদিকে কেবল দগ্ধ হাহাকার,  বলো প্রভু ভূল কার এতো মায়া তাহার লাগি সহিতে সহিতে মরি নির্বিকার নিঃস্ব আমি পুরোদমে তবুও তাহারে চাহি বারবার,  বলো প্রভু ভূল কার উদাসী মন বুঝেনা দায়ভার!

আসক্ত ভাবনা

 আসক্ত ভাবনা মোহাম্মদ মুছা  জীবনের পরতে পরতে পদচিহ্ন রেখে নিজেকে আড়াল করেছো, এই শহরে এমন কোন অলিগলি নেই তোমাকে খোঁজা হয়নি, তবুও থেমে নেই খুঁজছি আজো খুঁজছি, কদম, হাসনাহেনা, বেলি ঝরে পড়ুক তামাম হবে এই শহরের বাতাস ভেজা কোপার সুবাস লুকাবে কেমনে, আমি যে তীর আছি আমার পনে। হ্যামিলনের বাঁশিও আছে, যেদিন সব থেমে যাবে, তুলে দিবো সুর  বেলা শেষে সামলাবে কেমনে নিজেকে? তখন তোমায় নিয়ে ডুব দিবো অথৈই জলে, নীল সাগরে,

অভিমানী নন্দিনী

 অভিমানী নন্দিনী  মোহাম্মদ মুছা  ঘুরছে ঘড়ির কাটা,ঘুরে অবিরাম     জীবন বেলা পার হয়ে যায়        বলছি খানিক থাম, চন্দ্র সূর্য আসা যাওয়া দিব্যি পালা করে শখের বাগান শূন্য আজি রোজই পুষ্প ঝরে, নদীর বুকে জোয়ার ভাটা বদলায় জলের রূপ স্রোতে ভরা নদী আমার বুকে ভিষণ ক্ষোভ,  ঘুরছে ঘড়ির কাটা,ঘুরে অবিরাম      জীবন বেলা পার হয়ে যায়          বলছি খানিক থাম, অভিমানী নন্দিনী মোর আসবে ফিরে তাই থমকে আছে জীবন আমার  তারই অপেক্ষায়!

শ্রাবন বিষাদ

 শ্রাবনের বিষাদ মোহাম্মদ মুছা  মেঘের আড়াল সুনীল আকাশ শ্রাবন বুঝি করলো বিনাশ, ঝরো ঝরো ঝরছে অঝোরে মনটা উদাস বিরহ বিভোরে, জলে জলে সিক্ত শ্রাবন উতলা ঢেউয়ে লুটেছে কানন, বাঁধি কেমন বলো হৃদয়টারে খেল হারিয়ে যায় মুশলধারে, ঝরো ঝরো ঝরছে অঝোরে মনটা উদাস বিরহ বিভোরে, হৃদয় নদীর বাঁধ ভেঙে যায়  স্রোতের পরে স্রোতের হানায়, শ্রাবনের বিষাদ বিরহ জাগায় মনটা মাতাল পাগলা হাওয়ায়!

ভালোবাসার জয়গান

 ভালোবাসার জয়গান  মোহাম্মদ মুছা  মোগল গেলো তুর্কি গেলো ইংরেজ ও গেলো হটে আমার রাজ্যে তুমি কেবল উঠে রইলে লাটে!  বেনিয়াদের আনাগোনায় হলো শত বিবর্তন তুমিও এসো রয়ে গেলো হৃদয়ে আমার চিরন্তন, না মুছিলে হৃদয় হতে না সরিলে স্বপ্নে রাতে  ভাঙছো হৃদয় প্রতিদিনই নিঃস্ব আমি তাতে, জ্বলতে জ্বলতে কয়লা আমি তাইতো এখন বিপ্লবী সইবে না আর কোন আঘাত শোনরে আমার অপ্সরী, করবো আঘাত তোর সীমানায় কাঁদবে আকাশ ধ্বংসলীলায় অহংকারের প্রাচীর ভেঙে  মিশিয়ে দিবো সবি ধুলায়, আনবো তখন লুটিয়ে তোরে রাখবো বুকে জীবন ভরে কার কি সাহস ছিনিয়ে নিবে ধরবো দুহাত শক্ত করে, ভালোবাসার রটবে জয়গান দেখবে বিশ্ব জনে-জনে  করবো তোরে মহারানী আমার মনের সিংহাসনে।

ভালোবাসা অভিশাপ

 ভালবাসা অভিশাপ মোহাম্মদ মুছা  হেসে খেলে দিব্যি তুমি করছো বেলা পার ক্ষণে ক্ষণে ভোগছি আমি প্রেম-যাতনার বিমার, এমন তফাৎ কেনো বলো কারে দিবো দায়? ভালোবাসা নিঃস্ব করে এইতো বলবে সাঁই! স্বাদের জীবন তুচ্ছ করে বন্দী কারাগারে তোমায় আজো খুঁজে খুঁজে ডুবছি অন্ধকারে, যে নগরে সুখী তুমি তোমার মতো করে সেই নগরে দুঃখবিলাস আমার হৃদয় জুড়ে! তবুও আজো বলবে তুমি মুল্যহীন আমার ভাব তাহলে কি ভেবে নিবো ভালোবাসা শুধু অভিশাপ!

বসত মাটির ঘরে

 বসত মাটির ঘরে মোহাম্মদ মুছা  বিস্তৃত পৃথিবীতে মোদের কত কি কারবার, দালানকোঠা আর সাজ গোঁজে রাঙায় সংসার, নয়ন জুড়ে স্বপন বুক ভরা আশা কপালেরে দোষী আবার পায়না যখন দিশা, সুখ আর দুঃখ হাসি আর কান্না এইতো বুঝি জীবন নদীর অন্তিম মোহনা, যার যতো বাহাদুরি জীবনের এই মেলায় হাত দুটো শূন্য সময় যাওয়ার বেলায়, ভালো আর মন্দ সবাই যায় ফিরে মাটির গড়া দেহ বসত মাটির ঘরে, মনুষ্য দিয়ে বিধাতার এই কেমন খেলা তিনিই জানেন নিশ্চয়ই কেন সৃষ্টির এই লীলা!